February 7, 2026, 1:29 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়া কারাগারে হাজতির অস্বাভাবিক মৃত্যু, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা বিএনপি-জামাতের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা গড়াই নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্রের বার্ষিক বনভোজন ও সাহিত্য আড্ডা রয়টার্সকে তারেক রহমান/ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠন করবে না বিএনপি ২০২৬ সালের একুশে পদক পেলেন নয় ব্যক্তি ও এক ব্যান্ড হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন/ গুম কমেছে, কিন্তু গণগ্রেপ্তার ও জামিন বঞ্চনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ ক্ষমতায়নের আড়ালে বিতর্ক—ভোটের রাজনীতিতে নারী প্রশ্ন কতটা প্রান্তিক ! গঙ্গার সঙ্কুচিত স্রোত, বিস্তৃত সংকট/ দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিবেশ ও জীবিকার দ্বিমুখী চাপ রপ্তানিতে ধসের সতর্ক সংকেত: সাত মাসে আয় কমেছে ৫৬ কোটি ডলার অপেশাদার কাজে ন্যুব্জ প্রাথমিক শিক্ষকতা/ নন-প্রফেশনাল চাপেই বার্নআউটের শেষ ধাপে ৯৩ শতাংশ শিক্ষক

১৪ ডিসেম্বর/বাঙালির অপূরণীয় ক্ষতির দিন

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আজ ১৪ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাসের এ দিনটি বাঙালী জাতির আরেক অপূরণীয় ক্ষতির দিন। এই দিনের প্রথম প্রহরে দখলদার পিশাচ-ঘাতক নপংসূক পাকিস্থানী বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর জামাত-শিবির আলবদর বাহিনী বাংলার মুক্তিকামী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। যাদের মধ্যে ছিলেন লেখক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, চলচ্চিত্র ও নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সমাজসেবী ও সংস্কৃতিসেবী।
এই জঘণ্য ঘটনা ঘটে যখন নয় মাসের যুদ্ধের প্রায় শেষ। পাকিদের পরাজয় নিশ্চিত। সেদিন এ হত্যার মধ্য দিয়ে তারা জাতিকে মেধাশূন্য করতে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
১৯৭১-এর ১০ ডিসেম্বর থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি চলে। মূলত ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়। এদিন বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় অন্তত ২শ বুদ্ধিজীবীকে। তাদের চোখে কাপড় বেঁধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর চালানো হয় বীভৎস নির্যাতন। পরে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে।
বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে প্রতি বছর ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পক্ষে এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। আর তাকে তালিকা প্রস্তুতিতে সহযোগিতা ও হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের পেছনে ছিল মূলত জামায়াত গঠিত কুখ্যাত আলবদর বাহিনী। বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান ঘাতক ছিলেন চৌধুরী মঈনুদ্দীন (অপারেশন ইনচার্জ) ও আশরাফুজ্জামান খান (প্রধান জল্লাদ)। ১৬ ডিসেম্বরের পর আশরাফুজ্জামান খানের নাখালপাড়ার বাড়ি থেকে তার একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করা হয়, যার দুটি পৃষ্ঠায় প্রায় ২০ জন বুদ্ধিজীবীর নাম-ঠিকানা লেখা ছিল। তার গাড়িচালক মফিজুদ্দিনের দেওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী রায়েরবাজারের বিল ও মিরপুরের শিয়ালবাড়ির বধ্যভূমিতে বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর গলিত মরদেহ পাওয়া যায়। যাদের তিনি নিজ হাতে গুলি করে মেরেছিলেন।
আর চৌধুরী মঈনুদ্দীন একাত্তর সালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি অবজারভার ভবন থেকে বুদ্ধিজীবীদের নাম-ঠিকানা রাও ফরমান আলী ও ব্রিগেডিয়ার বশীর আহমেদকে পৌঁছে দিতেন। এছাড়া আরও ছিলেন এ বি এম খালেক মজুমদার (শহীদুল্লাহ কায়সারের হত্যাকারী), মাওলানা আবদুল মান্নান (ডা. আলীম চৌধুরীর হত্যাকারী), আবদুল কাদের মোল্লা (কবি মেহেরুন্নেসার হত্যাকারী) প্রমুখ। চট্টগ্রামে প্রধান হত্যাকারী ছিলেন ফজলুল কাদের চৌধুরী ও তার দুই ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং গিয়াস কাদের চৌধুরী।
দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আলাদা বাণী দেন। এছাড়া মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানান কর্মসূচি পালন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net